সমাজ
প্রলয় নাগ
গ্রাম-সমাজের সঙ্গে লড়াইটা আমার বেশ পুরনো। যদি সে সমাজ লোপ পাচ্ছে, রূপ বদলাচ্ছে তবু আমি সে লড়াইটা জিইয়ে রাখবো।
আমাকে বার বার সমাজের দোহাই দেওয়া হয়। সমাজ এই মানবে না, সমাজ ওটা মানবে না! আমার ইচ্ছে করে সমাজের বুকের ওপর করালবদনীর মতো এক পা উঠিয়ে দেই।
আমার বাবাও তখন সাবালক হয়ে ওঠে নি। দেশ ভিটে মাটি ছেড়ে এদেশে আসার এক দশকও পূর্ণ হয়নি। আর্থিক সঙ্কটে পরিবারটি জর্জরিত। কোনওরকমে দিন চলছে, একবেলা দু'বেলা খেয়ে পরে দিন পাড়ি দেওয়া কথা, বিলাসিতা তো দূরের কথা! আর সে সময় আমার ঠাকুরদা হঠাৎ এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। কয়েকদিন পরে তিনি প্রাণ ত্যাগ করেন। আর সে সময় ঠাকুমার পক্ষে মৃতদেহ বাড়িতে এনে সৎকার করার মতো টাকা পয়সা কিছুই ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনি শহরের সৎকার সমিতির হাতে দায়িত্ব তুলে দেন। সৎকার সমিতি মৃতদেহ দাহ করে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। সমস্যা শুরু হল এরপরে। গ্রাম-সমাজের রক্ষক-রা আপত্তি তুললেন। তারা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে অংশ নেবেন না। যেহেতু তারা মৃত দেহ দাহ করেন নি বা দাহ করতে স্বচক্ষে দেখেন নি, তাই। আমার ঠাম্মা সম্পূর্ণ নিরুপায়। সমাজপতিরা বিধান দিলেন, আবার মৃতদেহ দাহ করতে হবে। আর এটা না করলে সামাজিক ভাবে বয়কট করা হবে পরিবারটিকে। শেষপর্যন্ত তাই হল। খড়ের পুতুল গড়ে আবার গ্রামের নদীর ঘাটে দাহ করা হল ঠাকুরদা -কে।
প্রলয় নাগ
গ্রাম-সমাজের সঙ্গে লড়াইটা আমার বেশ পুরনো। যদি সে সমাজ লোপ পাচ্ছে, রূপ বদলাচ্ছে তবু আমি সে লড়াইটা জিইয়ে রাখবো।
আমাকে বার বার সমাজের দোহাই দেওয়া হয়। সমাজ এই মানবে না, সমাজ ওটা মানবে না! আমার ইচ্ছে করে সমাজের বুকের ওপর করালবদনীর মতো এক পা উঠিয়ে দেই।
আমার বাবাও তখন সাবালক হয়ে ওঠে নি। দেশ ভিটে মাটি ছেড়ে এদেশে আসার এক দশকও পূর্ণ হয়নি। আর্থিক সঙ্কটে পরিবারটি জর্জরিত। কোনওরকমে দিন চলছে, একবেলা দু'বেলা খেয়ে পরে দিন পাড়ি দেওয়া কথা, বিলাসিতা তো দূরের কথা! আর সে সময় আমার ঠাকুরদা হঠাৎ এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। কয়েকদিন পরে তিনি প্রাণ ত্যাগ করেন। আর সে সময় ঠাকুমার পক্ষে মৃতদেহ বাড়িতে এনে সৎকার করার মতো টাকা পয়সা কিছুই ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনি শহরের সৎকার সমিতির হাতে দায়িত্ব তুলে দেন। সৎকার সমিতি মৃতদেহ দাহ করে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। সমস্যা শুরু হল এরপরে। গ্রাম-সমাজের রক্ষক-রা আপত্তি তুললেন। তারা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে অংশ নেবেন না। যেহেতু তারা মৃত দেহ দাহ করেন নি বা দাহ করতে স্বচক্ষে দেখেন নি, তাই। আমার ঠাম্মা সম্পূর্ণ নিরুপায়। সমাজপতিরা বিধান দিলেন, আবার মৃতদেহ দাহ করতে হবে। আর এটা না করলে সামাজিক ভাবে বয়কট করা হবে পরিবারটিকে। শেষপর্যন্ত তাই হল। খড়ের পুতুল গড়ে আবার গ্রামের নদীর ঘাটে দাহ করা হল ঠাকুরদা -কে।