মুর্শিদাবাদ ডায়েরি
প্রলয় নাগ
জানালা দিয়ে সুড় সুড় করে পদ্মার শীতল হাওয়া ঢুকছে। এ সময় পাখা বন্ধ করে দিলেও কিছু যায় আসে না। ঢাকনা ছাড়া পুরনো নোংরা বালিশটা টেনে তার ওপর আমার সখের অসমিয়া গামোছাটা বিছিয়ে শুয়ে পড়লাম। ক্লান্ত শরীর, জিরিয়ে নিচ্ছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখে তন্দ্রা এল। কে যেন নরম হাতের আঙুলের স্পর্শে চোখের পাতা দুটি বুজিয়ে দিল। অনেকটা পুরনো পরিচিত সেই হাতের স্পর্শের মতোই। বলল,
--- এখন একটু ঘুমোও! পরে আমি ডেকে দেব!
পুরনো প্রাসাদের অংশ বিশেষ, মতি ঝিলের পাশেই। ওপর তলাটা গেস্ট হাউস। নিচ তলাটা প্রায় পরিত্যক্ত। কেবল একজন বৃদ্ধের ঘর। উনিই এসবের কেয়ারটেকার। বৃদ্ধের হাঁপানি রোগ। কাশতে কাশতে নুয়ে পড়েন। প্রথম সাক্ষাতেই বিনে পয়সায় উপদেশ দিয়ে দিলাম।
---আপনি বাদুরের মাংস খান হাঁপানি ছেড়ে যাবে!
অনেক কষ্টে ওপরে এসে একখানি ঘর খুলে দিলেন। আর তার উল্টোদিকে টয়লেট বাথরুম। বললেন,
---রাতে পশ্চিমের জানালাটা খুলেবেন না বাবু!
কথাটার মানে ঠিক বুঝতে পারলাম না। আবার ভাবলাম মশা-টশা আসবে তাই হয়তো বলছেন। ঘরে প্রবেশ করেই চোখে পড়ল হরেক রকমের দেয়াল লিখন। কোথায়ও নগ্ন নারী দেহের চিত্র কোথাও বা উন্মুক্ত বুক। কোথায় আবার শ্যামলী প্লাস সুশান্ত। হাত-মুখে জল দিতে গিয়েও দেখি সে জায়গাটা অবস্থা আরও শোচনীয়। দেওয়াগুলির অবস্থা 'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।' বৃদ্ধের কাছে শুনলাম এখান থেকে পদ্মা খুব বেশি দূরে নয়। পায়ে হেঁটে মিনিট কুড়ি হবে। বিকেলে বেশ মনোরম ঠাণ্ডা বাতাসও আসে। বৃদ্ধ আমায় জিজ্ঞেস করলেন,
---রাতে কি খাবেন আপনি?
গতকাল দিন-রাত ভালো করে কিছুই খাওয়া হয়নি। ট্রেন যাত্রার ধকল গেছে, রাতে খেতে হবে। তাঁকে বললাম,
--- আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। আমি এক ফাঁকে গিয়ে খেয়ে আসব। আর একটা রাতেরই তো ব্যাপার!
বৃদ্ধ চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পড়ে একটা মোমবাতি আর দেশলাই দিয়ে গেলেন। বললেন,
--- রাতে কেউ এসে দরজা ধাক্কালেও খুলবেন না। এমনকি আমি এলেও না।
--- বেশ!
আবার মনের মধ্যে একটা খটকা লাগল। ভাবলাম বর্ডার এলাকা-- তাই হয়তো। অনেক সময় অপরাধীরা রাতে আশ্রয়ের খোঁজে ভালো মানুষ সেজে আসে। আবার ভাবলাম তাহলে বৃদ্ধ নিজের কথা বলল কেন?
স্নান সেরে বিছানা মশারি ঠিক করতে করতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এল। পেটে খিদেও দাউ দাউ করছিলও, খেয়ে এলাম। এবার সোজা মশারির ভেতর। আগামীকাল কী কী করতে হবে তাই নিয়ে ভাবছি। মাধব বলেছিল,
---দাদা হাজার দুয়ারিটা দেখে এসো। আর ঘসেটি বেগমের ছুরিটাও..!
তা-ও ভাবছি,একটু সময় পেলে যাব। তারপর মোবাইলে ডাটাটা অন করে কিছুক্ষণ সোসাল নেটওয়ার্ক আর হট্ আন্টি এসব করতে করতে সাড়ে দশটা বেজে গেল। না আর পারছি! এবার মোবাইলটা চার্জে দিয়ে অপরটি বালিশের কাছে রেখে শুয়ে পড়লাম। শুনতে পাচ্ছি দূরে সার্কাস ভেঙেছে। লোক ফিরছে দলে দলে। বৃদ্ধের কাশিও শুনতে পাচ্ছি না। এই বিশাল প্রাসাদ কক্ষে আমি একা, কাটাতে হবে একটি রাত, সম্পূর্ণ একা। কেউ নেই আশে পাশে। নিজেকে মনে হচ্ছে সিরাজ। আমার চারপাশে কারা যেন তরবারি হাতে আমাকে পাহারা দিচ্ছে। সবার চোখেই চক্রান্তের চিহ্ন। আমার ঘোড়া ছুটে চলেছে দূরে । সমুদ্র পাহাড় নদী মাঠ পেরিয়ে। আমি নিহত হয়ে পড়ে। কান্না! কে কাঁদছে? বড় চেনা সে স্বর। জোরে আরও জোরে, শুনতে পাচ্ছি পাচ্ছি সে স্বর। সে কান্নার শব্দ যে এ ঘরের চার দেওয়াল ভেদ করে আমার কাছেই আসছে। হঠাৎ ভয়ঙ্কর বিভৎস এক চিৎকার। নারীর কণ্ঠ, অস্পষ্ট।
---দরজা খোল! আমি এসেছি।
---দরজা খোল!
এবার যেন আরও জোরে। পশ্চিমের জানালায় খটখট্।
---দরজা খোল! আমি এসেছি!
দক্ষিণের জানালায় খটখট। পুরোনো কাঁচের ওপাশে অস্পষ্ট মুখ। আর চকচকে ছুরি!
---দরজা খোল! আমি এসেছি।
আমি ভয়ে জড়সড়। মশারির ভেতর থেকে এপাশ-ওপাশ করছি! ক্রমশ চিৎকার আর জোরে, আরও খটখট। দরজা খোল! আমি এসেছি। আমি চুপ! যেন কেউ নেই ঘরে! কেউ নেই! ঘামে শরীর ভিজে বিছানা ভিজে যাচ্ছে। এবার বৃদ্ধের কাশির শব্দ, দরজায় খটখট-
---দরজা খুলুন। দরজা খুলুন।
বৃদ্ধ যেন দরজা ভেঙে ফেলবে। এত জোর কোত্থেকে পেল সে। সে তো কাশতে কাশতে নুয়ে পড়ছিল।
হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। ঘরটায় শীতল হাওয়ার প্রেমিকা সুলভ আদরে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম মনে নেই। ঘুম ভাঙল হস্টেলের মেয়েদের ডাকেই।
--- দাদা...ও দাদা! দাদা...ও দাদা!
অলস শরীরটাকে টেনে নিয়ে জানালা কাছে গিয়ে নিচের দিকে তাকালাম। দেখি হস্টেলের মেয়েরা ডেকে যাচ্ছে।
--- তুমি আজ একা থাকবে। আজ রাতে তোমাকে ভূতে ধরবে।
--- হুম..! কোথায় যাচ্ছো সব দল বেঁধে ?
---জল আনতে!
--- যাও!
হস্টেলের জল ভালো নয়। মেয়েরা রোজ বাইরে থেকে জল এনে রাখে। আবার বিছানায় ফিরে এলাম। দিনের বেলা এই স্বপ্ন! মুডটা বিগরে গেল। ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয় কিন্তু দিবা-স্বপ্ন কী হয় জানি না। স্বপ্ন স্বপ্নেই থাক। সন্ধ্যাও হয়ে আসছে, আমি বিছানা ছেড়ে উঠলাম।
সন্ধ্যার একটু পরে খেয়ে দেয়ে বিছানায় এলাম। হাতের কাছে রেখেছি এক মাত্র সম্বল ফল কাটার একটা ছুরি। পশ্চিমের জানলাটা বন্ধ আছে কিনা আবার দেখে নিলাম। ভিন্টিলেশনের ফাঁকে পাখিগুলি বাসা বেঁধেছে, খুব বেশি কিচিরমিচির করছে। হস্টেলের মেয়েরা গানের লড়াই শুরু করেছ, একটু আধটু শোনা যায়। জানালা বন্ধ করে টিভি চালিয়ে বসেছি। তখনই ঘর অন্ধকার, লাইট চলে গেল। জলের ট্যাবটা ঠিকঠাক বন্ধ হয় না। টিপ টিপ করে জল পড়ছে। মনে হচ্ছে কেউ যে নিরাপদে পা ফেলছে। ঘরে মোমবাতি জ্বেলে বসেছি। আমি আর মোমবাতি এক সাথে পুড়ছি। জানি না কে আগে শেষ হবে! একবার ভাবলাম গার্ডকে ডেকে নিয়ে আসি আবার মনে হল, না থাক! একটা রাতই তো!
পরদিন সকালবেলা নিজেকে আবার বিছানার খুঁজে পেয়ে একটু মনটা ভালো লেগেছিল। না আমি পেরেছি শেষপর্যন্ত!
রুম ছেড়ে বেরিয়ে আসতে গিয়ে বৃদ্ধের হাতে ঘরের চাবিখানি বুঝিয়ে দিতে গেছি। বৃদ্ধ তাঁর খাটের ওপর বসে তামাক খাচ্ছেন। চাবিটা বুঝিয়ে দিয়ে ভাবলাম একবার নামটা জেনে নেই!
--- আপনার নামটা তো জানা হলো না।
বৃদ্ধ কাশতে কাশতেই জবাব দিলেন,
--- নাম! নাম দিয়ে আর কি হবে বাবু?
--- তবু তো! আমাদের সকলেরই একটা নাম, পরিচয়....!
আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই বৃদ্ধ বললেন,
---সিরাজ!
প্রলয় নাগ
জানালা দিয়ে সুড় সুড় করে পদ্মার শীতল হাওয়া ঢুকছে। এ সময় পাখা বন্ধ করে দিলেও কিছু যায় আসে না। ঢাকনা ছাড়া পুরনো নোংরা বালিশটা টেনে তার ওপর আমার সখের অসমিয়া গামোছাটা বিছিয়ে শুয়ে পড়লাম। ক্লান্ত শরীর, জিরিয়ে নিচ্ছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখে তন্দ্রা এল। কে যেন নরম হাতের আঙুলের স্পর্শে চোখের পাতা দুটি বুজিয়ে দিল। অনেকটা পুরনো পরিচিত সেই হাতের স্পর্শের মতোই। বলল,
--- এখন একটু ঘুমোও! পরে আমি ডেকে দেব!
পুরনো প্রাসাদের অংশ বিশেষ, মতি ঝিলের পাশেই। ওপর তলাটা গেস্ট হাউস। নিচ তলাটা প্রায় পরিত্যক্ত। কেবল একজন বৃদ্ধের ঘর। উনিই এসবের কেয়ারটেকার। বৃদ্ধের হাঁপানি রোগ। কাশতে কাশতে নুয়ে পড়েন। প্রথম সাক্ষাতেই বিনে পয়সায় উপদেশ দিয়ে দিলাম।
---আপনি বাদুরের মাংস খান হাঁপানি ছেড়ে যাবে!
অনেক কষ্টে ওপরে এসে একখানি ঘর খুলে দিলেন। আর তার উল্টোদিকে টয়লেট বাথরুম। বললেন,
---রাতে পশ্চিমের জানালাটা খুলেবেন না বাবু!
কথাটার মানে ঠিক বুঝতে পারলাম না। আবার ভাবলাম মশা-টশা আসবে তাই হয়তো বলছেন। ঘরে প্রবেশ করেই চোখে পড়ল হরেক রকমের দেয়াল লিখন। কোথায়ও নগ্ন নারী দেহের চিত্র কোথাও বা উন্মুক্ত বুক। কোথায় আবার শ্যামলী প্লাস সুশান্ত। হাত-মুখে জল দিতে গিয়েও দেখি সে জায়গাটা অবস্থা আরও শোচনীয়। দেওয়াগুলির অবস্থা 'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।' বৃদ্ধের কাছে শুনলাম এখান থেকে পদ্মা খুব বেশি দূরে নয়। পায়ে হেঁটে মিনিট কুড়ি হবে। বিকেলে বেশ মনোরম ঠাণ্ডা বাতাসও আসে। বৃদ্ধ আমায় জিজ্ঞেস করলেন,
---রাতে কি খাবেন আপনি?
গতকাল দিন-রাত ভালো করে কিছুই খাওয়া হয়নি। ট্রেন যাত্রার ধকল গেছে, রাতে খেতে হবে। তাঁকে বললাম,
--- আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। আমি এক ফাঁকে গিয়ে খেয়ে আসব। আর একটা রাতেরই তো ব্যাপার!
বৃদ্ধ চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পড়ে একটা মোমবাতি আর দেশলাই দিয়ে গেলেন। বললেন,
--- রাতে কেউ এসে দরজা ধাক্কালেও খুলবেন না। এমনকি আমি এলেও না।
--- বেশ!
আবার মনের মধ্যে একটা খটকা লাগল। ভাবলাম বর্ডার এলাকা-- তাই হয়তো। অনেক সময় অপরাধীরা রাতে আশ্রয়ের খোঁজে ভালো মানুষ সেজে আসে। আবার ভাবলাম তাহলে বৃদ্ধ নিজের কথা বলল কেন?
স্নান সেরে বিছানা মশারি ঠিক করতে করতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এল। পেটে খিদেও দাউ দাউ করছিলও, খেয়ে এলাম। এবার সোজা মশারির ভেতর। আগামীকাল কী কী করতে হবে তাই নিয়ে ভাবছি। মাধব বলেছিল,
---দাদা হাজার দুয়ারিটা দেখে এসো। আর ঘসেটি বেগমের ছুরিটাও..!
তা-ও ভাবছি,একটু সময় পেলে যাব। তারপর মোবাইলে ডাটাটা অন করে কিছুক্ষণ সোসাল নেটওয়ার্ক আর হট্ আন্টি এসব করতে করতে সাড়ে দশটা বেজে গেল। না আর পারছি! এবার মোবাইলটা চার্জে দিয়ে অপরটি বালিশের কাছে রেখে শুয়ে পড়লাম। শুনতে পাচ্ছি দূরে সার্কাস ভেঙেছে। লোক ফিরছে দলে দলে। বৃদ্ধের কাশিও শুনতে পাচ্ছি না। এই বিশাল প্রাসাদ কক্ষে আমি একা, কাটাতে হবে একটি রাত, সম্পূর্ণ একা। কেউ নেই আশে পাশে। নিজেকে মনে হচ্ছে সিরাজ। আমার চারপাশে কারা যেন তরবারি হাতে আমাকে পাহারা দিচ্ছে। সবার চোখেই চক্রান্তের চিহ্ন। আমার ঘোড়া ছুটে চলেছে দূরে । সমুদ্র পাহাড় নদী মাঠ পেরিয়ে। আমি নিহত হয়ে পড়ে। কান্না! কে কাঁদছে? বড় চেনা সে স্বর। জোরে আরও জোরে, শুনতে পাচ্ছি পাচ্ছি সে স্বর। সে কান্নার শব্দ যে এ ঘরের চার দেওয়াল ভেদ করে আমার কাছেই আসছে। হঠাৎ ভয়ঙ্কর বিভৎস এক চিৎকার। নারীর কণ্ঠ, অস্পষ্ট।
---দরজা খোল! আমি এসেছি।
---দরজা খোল!
এবার যেন আরও জোরে। পশ্চিমের জানালায় খটখট্।
---দরজা খোল! আমি এসেছি!
দক্ষিণের জানালায় খটখট। পুরোনো কাঁচের ওপাশে অস্পষ্ট মুখ। আর চকচকে ছুরি!
---দরজা খোল! আমি এসেছি।
আমি ভয়ে জড়সড়। মশারির ভেতর থেকে এপাশ-ওপাশ করছি! ক্রমশ চিৎকার আর জোরে, আরও খটখট। দরজা খোল! আমি এসেছি। আমি চুপ! যেন কেউ নেই ঘরে! কেউ নেই! ঘামে শরীর ভিজে বিছানা ভিজে যাচ্ছে। এবার বৃদ্ধের কাশির শব্দ, দরজায় খটখট-
---দরজা খুলুন। দরজা খুলুন।
বৃদ্ধ যেন দরজা ভেঙে ফেলবে। এত জোর কোত্থেকে পেল সে। সে তো কাশতে কাশতে নুয়ে পড়ছিল।
হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। ঘরটায় শীতল হাওয়ার প্রেমিকা সুলভ আদরে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম মনে নেই। ঘুম ভাঙল হস্টেলের মেয়েদের ডাকেই।
--- দাদা...ও দাদা! দাদা...ও দাদা!
অলস শরীরটাকে টেনে নিয়ে জানালা কাছে গিয়ে নিচের দিকে তাকালাম। দেখি হস্টেলের মেয়েরা ডেকে যাচ্ছে।
--- তুমি আজ একা থাকবে। আজ রাতে তোমাকে ভূতে ধরবে।
--- হুম..! কোথায় যাচ্ছো সব দল বেঁধে ?
---জল আনতে!
--- যাও!
হস্টেলের জল ভালো নয়। মেয়েরা রোজ বাইরে থেকে জল এনে রাখে। আবার বিছানায় ফিরে এলাম। দিনের বেলা এই স্বপ্ন! মুডটা বিগরে গেল। ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয় কিন্তু দিবা-স্বপ্ন কী হয় জানি না। স্বপ্ন স্বপ্নেই থাক। সন্ধ্যাও হয়ে আসছে, আমি বিছানা ছেড়ে উঠলাম।
সন্ধ্যার একটু পরে খেয়ে দেয়ে বিছানায় এলাম। হাতের কাছে রেখেছি এক মাত্র সম্বল ফল কাটার একটা ছুরি। পশ্চিমের জানলাটা বন্ধ আছে কিনা আবার দেখে নিলাম। ভিন্টিলেশনের ফাঁকে পাখিগুলি বাসা বেঁধেছে, খুব বেশি কিচিরমিচির করছে। হস্টেলের মেয়েরা গানের লড়াই শুরু করেছ, একটু আধটু শোনা যায়। জানালা বন্ধ করে টিভি চালিয়ে বসেছি। তখনই ঘর অন্ধকার, লাইট চলে গেল। জলের ট্যাবটা ঠিকঠাক বন্ধ হয় না। টিপ টিপ করে জল পড়ছে। মনে হচ্ছে কেউ যে নিরাপদে পা ফেলছে। ঘরে মোমবাতি জ্বেলে বসেছি। আমি আর মোমবাতি এক সাথে পুড়ছি। জানি না কে আগে শেষ হবে! একবার ভাবলাম গার্ডকে ডেকে নিয়ে আসি আবার মনে হল, না থাক! একটা রাতই তো!
পরদিন সকালবেলা নিজেকে আবার বিছানার খুঁজে পেয়ে একটু মনটা ভালো লেগেছিল। না আমি পেরেছি শেষপর্যন্ত!
রুম ছেড়ে বেরিয়ে আসতে গিয়ে বৃদ্ধের হাতে ঘরের চাবিখানি বুঝিয়ে দিতে গেছি। বৃদ্ধ তাঁর খাটের ওপর বসে তামাক খাচ্ছেন। চাবিটা বুঝিয়ে দিয়ে ভাবলাম একবার নামটা জেনে নেই!
--- আপনার নামটা তো জানা হলো না।
বৃদ্ধ কাশতে কাশতেই জবাব দিলেন,
--- নাম! নাম দিয়ে আর কি হবে বাবু?
--- তবু তো! আমাদের সকলেরই একটা নাম, পরিচয়....!
আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই বৃদ্ধ বললেন,
---সিরাজ!
No comments:
Post a Comment