Sunday, 28 October 2018

সমাজ -- প্রলয় নাগ

সমাজ
প্রলয় নাগ

গ্রাম-সমাজের সঙ্গে লড়াইটা আমার বেশ পুরনো। যদি সে সমাজ লোপ পাচ্ছে, রূপ বদলাচ্ছে তবু আমি সে লড়াইটা জিইয়ে রাখবো।
আমাকে বার বার সমাজের দোহাই দেওয়া হয়। সমাজ এই মানবে না, সমাজ ওটা মানবে না! আমার ইচ্ছে করে সমাজের বুকের ওপর করালবদনীর মতো এক পা উঠিয়ে দেই।
আমার বাবাও তখন সাবালক হয়ে ওঠে নি। দেশ ভিটে মাটি ছেড়ে এদেশে আসার এক দশকও পূর্ণ হয়নি। আর্থিক সঙ্কটে পরিবারটি জর্জরিত। কোনওরকমে দিন চলছে, একবেলা দু'বেলা খেয়ে পরে দিন পাড়ি দেওয়া কথা, বিলাসিতা তো দূরের কথা!  আর সে সময় আমার ঠাকুরদা হঠাৎ  এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। কয়েকদিন পরে তিনি প্রাণ ত্যাগ করেন। আর সে সময় ঠাকুমার পক্ষে মৃতদেহ বাড়িতে এনে সৎকার করার মতো টাকা পয়সা কিছুই ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনি শহরের সৎকার সমিতির হাতে দায়িত্ব তুলে দেন। সৎকার সমিতি মৃতদেহ দাহ করে। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। সমস্যা শুরু হল এরপরে। গ্রাম-সমাজের রক্ষক-রা আপত্তি তুললেন। তারা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে অংশ নেবেন না।  যেহেতু তারা মৃত দেহ দাহ করেন নি বা দাহ করতে স্বচক্ষে দেখেন নি, তাই।  আমার ঠাম্মা সম্পূর্ণ নিরুপায়।  সমাজপতিরা বিধান দিলেন, আবার মৃতদেহ দাহ করতে হবে। আর এটা না করলে সামাজিক ভাবে বয়কট করা হবে পরিবারটিকে। শেষপর্যন্ত তাই হল। খড়ের পুতুল গড়ে আবার গ্রামের নদীর ঘাটে দাহ করা হল ঠাকুরদা -কে।

Monday, 22 October 2018

আহ্লাদে আটখানা - প্রলয় নাগ


আহ্লাদে আটখানা
 সাতে পাঁচে নেই
মাঝখানে যেইজন
পথ পাবে সেই...
কেন জানি না বহুদিন আগে  'পাতাল ঘর' ছবিতে শোনা লাইনগুলো মনে পড়ছে। তারওপর সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠেই দেখি এক বান্দা খবর পড়ে যাচ্ছে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। আমিও পুরো আহ্লাদে আটখানা হয়ে গেছি! পুরো ঝিঙ্কু কেস। আমার চিরকালের শ্রেষ্ঠ বীর তাও বাঙালি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী!  অনেকে ফেসবুকে হোয়াটস অ্যাপে খুশির বার্তা পাঠাচ্ছেন, ছড়াচ্ছেন।  বাহ্ মোদি জী বাহ্! আমার গলা দিয়েও বেরিয়ে এলো -- মিঁত্রো! তারপর নিজের গলা নিজেই টিপে ধরে বললাম চুপ শালা! ভালো কাজেও সমালোচনা!  আবার আগ বাড়িয়ে এসে দু'একজন জিগ্যেস করছে: বল সমর্থন  করিস না?  সত্যি তো সমর্থন না করে উপায় আছে!
-- হে ভারত শ্রেষ্ঠ বীর আপনাকে আমার কিছু কথা বলার আছে। আপনি বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন আমি জানি না। কিন্তু আপনার মৃত্যু হয়েছে আমি তা বিশ্বাস করি না। আপনি আমাদের ভারতবাসীর হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন, থাকবেন। কে আপনাকে প্রধানমন্ত্রী করল না-কি রাষ্ট্রপতি বানিয়ে দিল তাতে কিছু যায় আসে না। আপনার স্থান সবার ওপরে। আপনাকে নিয়েও নোংরা সেন্টিমেন্টের রাজনীতি খেলা শুরু হয়েছে। ক্ষমতা-প্রতাপের রাজনীতি আপানার মতো ব্যক্তিত্বকেও হাতিয়ার করে চলেছে। ইতিহাস বাদলাতে চাইছে তাদের উত্তরসূরীরা। হাজার হাজার বাঙালি নিধন যজ্ঞে মেতেছে যারা, তারা আবার আপনার মতো শ্রেষ্ঠ বাঙালি বীরকে এই শিরোপা দেয়। এ আরও এক নতুন খেলা। বাঙালি সেন্টিমেন্টের খেলা। ভোট ব্যাঙ্কের খেলা!