Thursday, 26 July 2018

মুর্শিদাবাদ ডায়েরি --প্রলয় নাগ

মুর্শিদাবাদ ডায়েরি
প্রলয় নাগ

 জানালা দিয়ে সুড় সুড় করে পদ্মার শীতল হাওয়া ঢুকছে। এ সময় পাখা বন্ধ করে দিলেও কিছু যায় আসে না।  ঢাকনা ছাড়া পুরনো নোংরা বালিশটা টেনে তার ওপর আমার সখের অসমিয়া গামোছাটা বিছিয়ে শুয়ে পড়লাম। ক্লান্ত শরীর, জিরিয়ে নিচ্ছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখে তন্দ্রা এল। কে যেন নরম হাতের আঙুলের স্পর্শে চোখের পাতা দুটি বুজিয়ে দিল। অনেকটা পুরনো পরিচিত সেই হাতের স্পর্শের মতোই। বলল,
--- এখন একটু ঘুমোও! পরে আমি ডেকে দেব!
পুরনো প্রাসাদের অংশ বিশেষ, মতি ঝিলের পাশেই। ওপর তলাটা গেস্ট হাউস। নিচ তলাটা প্রায় পরিত্যক্ত। কেবল একজন বৃদ্ধের ঘর। উনিই এসবের কেয়ারটেকার। বৃদ্ধের হাঁপানি রোগ। কাশতে কাশতে নুয়ে পড়েন। প্রথম সাক্ষাতেই বিনে পয়সায় উপদেশ দিয়ে দিলাম।
---আপনি বাদুরের মাংস খান হাঁপানি ছেড়ে যাবে!
অনেক কষ্টে ওপরে এসে একখানি ঘর খুলে দিলেন। আর তার উল্টোদিকে টয়লেট বাথরুম। বললেন,
---রাতে পশ্চিমের জানালাটা খুলেবেন না বাবু!
 কথাটার মানে ঠিক বুঝতে পারলাম না। আবার ভাবলাম মশা-টশা আসবে তাই হয়তো বলছেন। ঘরে প্রবেশ করেই চোখে পড়ল হরেক রকমের দেয়াল লিখন। কোথায়ও নগ্ন নারী দেহের চিত্র কোথাও বা উন্মুক্ত বুক। কোথায় আবার শ্যামলী প্লাস সুশান্ত। হাত-মুখে জল দিতে গিয়েও দেখি সে জায়গাটা অবস্থা আরও শোচনীয়। দেওয়াগুলির অবস্থা 'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।' বৃদ্ধের কাছে শুনলাম এখান থেকে পদ্মা খুব বেশি দূরে নয়। পায়ে হেঁটে মিনিট কুড়ি হবে। বিকেলে বেশ মনোরম ঠাণ্ডা বাতাসও আসে। বৃদ্ধ আমায় জিজ্ঞেস করলেন,
---রাতে কি খাবেন আপনি?
গতকাল দিন-রাত  ভালো করে কিছুই খাওয়া হয়নি। ট্রেন যাত্রার ধকল গেছে, রাতে খেতে হবে। তাঁকে বললাম,
--- আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। আমি এক ফাঁকে গিয়ে খেয়ে আসব। আর একটা রাতেরই তো ব্যাপার!
বৃদ্ধ চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পড়ে একটা মোমবাতি আর দেশলাই দিয়ে গেলেন। বললেন,
--- রাতে কেউ এসে দরজা ধাক্কালেও খুলবেন না। এমনকি আমি এলেও না।
--- বেশ!
আবার মনের মধ্যে একটা খটকা লাগল। ভাবলাম বর্ডার এলাকা-- তাই হয়তো। অনেক সময় অপরাধীরা রাতে আশ্রয়ের খোঁজে ভালো মানুষ সেজে আসে। আবার ভাবলাম তাহলে বৃদ্ধ নিজের কথা বলল কেন?
   স্নান সেরে বিছানা মশারি ঠিক করতে করতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এল। পেটে খিদেও দাউ দাউ করছিলও, খেয়ে এলাম। এবার সোজা মশারির ভেতর। আগামীকাল কী কী করতে হবে তাই নিয়ে ভাবছি। মাধব বলেছিল,
---দাদা হাজার দুয়ারিটা দেখে এসো। আর ঘসেটি বেগমের ছুরিটাও..!
তা-ও ভাবছি,একটু সময় পেলে যাব। তারপর মোবাইলে ডাটাটা অন করে কিছুক্ষণ সোসাল নেটওয়ার্ক আর হট্ আন্টি এসব করতে করতে সাড়ে দশটা বেজে গেল। না আর পারছি! এবার  মোবাইলটা চার্জে দিয়ে অপরটি  বালিশের কাছে রেখে শুয়ে পড়লাম। শুনতে পাচ্ছি দূরে সার্কাস ভেঙেছে। লোক ফিরছে দলে দলে। বৃদ্ধের কাশিও শুনতে পাচ্ছি না। এই বিশাল প্রাসাদ কক্ষে আমি একা, কাটাতে হবে একটি রাত, সম্পূর্ণ একা। কেউ নেই আশে পাশে। নিজেকে মনে হচ্ছে সিরাজ। আমার চারপাশে কারা যেন তরবারি হাতে আমাকে পাহারা দিচ্ছে। সবার চোখেই চক্রান্তের চিহ্ন। আমার ঘোড়া ছুটে চলেছে দূরে । সমুদ্র পাহাড় নদী মাঠ পেরিয়ে। আমি নিহত হয়ে পড়ে। কান্না! কে কাঁদছে? বড় চেনা সে স্বর। জোরে আরও জোরে,  শুনতে পাচ্ছি পাচ্ছি সে স্বর। সে কান্নার শব্দ যে এ ঘরের চার দেওয়াল ভেদ করে আমার কাছেই আসছে।  হঠাৎ ভয়ঙ্কর বিভৎস এক চিৎকার। নারীর কণ্ঠ, অস্পষ্ট।
---দরজা খোল! আমি এসেছি।
---দরজা খোল!
এবার যেন আরও জোরে। পশ্চিমের জানালায় খটখট্।
 ---দরজা খোল! আমি এসেছি!
দক্ষিণের জানালায় খটখট। পুরোনো কাঁচের ওপাশে অস্পষ্ট মুখ। আর চকচকে ছুরি!
---দরজা খোল! আমি এসেছি।
আমি ভয়ে জড়সড়। মশারির ভেতর থেকে এপাশ-ওপাশ করছি! ক্রমশ চিৎকার আর জোরে, আরও খটখট। দরজা খোল! আমি এসেছি। আমি চুপ! যেন কেউ নেই ঘরে! কেউ নেই!  ঘামে শরীর ভিজে বিছানা ভিজে যাচ্ছে। এবার বৃদ্ধের কাশির শব্দ, দরজায় খটখট-
---দরজা খুলুন। দরজা খুলুন।
বৃদ্ধ যেন দরজা ভেঙে ফেলবে। এত জোর কোত্থেকে পেল সে। সে তো কাশতে কাশতে নুয়ে পড়ছিল।

হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। ঘরটায় শীতল হাওয়ার প্রেমিকা সুলভ আদরে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম মনে নেই। ঘুম ভাঙল হস্টেলের মেয়েদের ডাকেই।
--- দাদা...ও দাদা!  দাদা...ও দাদা!
  অলস শরীরটাকে টেনে নিয়ে জানালা কাছে গিয়ে নিচের দিকে তাকালাম। দেখি হস্টেলের মেয়েরা ডেকে যাচ্ছে।
--- তুমি আজ একা থাকবে। আজ রাতে তোমাকে ভূতে ধরবে।
--- হুম..! কোথায় যাচ্ছো সব দল বেঁধে ?
---জল আনতে!
--- যাও!
হস্টেলের জল ভালো নয়। মেয়েরা রোজ বাইরে থেকে জল এনে রাখে। আবার বিছানায় ফিরে এলাম। দিনের বেলা এই স্বপ্ন!  মুডটা বিগরে গেল। ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয় কিন্তু দিবা-স্বপ্ন কী হয় জানি না। স্বপ্ন স্বপ্নেই থাক। সন্ধ্যাও হয়ে আসছে, আমি বিছানা ছেড়ে উঠলাম।
সন্ধ্যার একটু পরে খেয়ে দেয়ে বিছানায় এলাম। হাতের কাছে রেখেছি এক মাত্র সম্বল ফল কাটার একটা ছুরি। পশ্চিমের জানলাটা বন্ধ আছে কিনা আবার দেখে নিলাম।  ভিন্টিলেশনের ফাঁকে পাখিগুলি বাসা বেঁধেছে, খুব বেশি কিচিরমিচির করছে। হস্টেলের মেয়েরা  গানের লড়াই শুরু করেছ, একটু আধটু শোনা যায়। জানালা বন্ধ করে টিভি চালিয়ে বসেছি। তখনই ঘর অন্ধকার, লাইট চলে গেল। জলের ট্যাবটা ঠিকঠাক বন্ধ হয় না। টিপ টিপ করে জল পড়ছে। মনে হচ্ছে কেউ যে নিরাপদে পা ফেলছে। ঘরে মোমবাতি জ্বেলে বসেছি। আমি আর মোমবাতি এক সাথে পুড়ছি। জানি না কে আগে শেষ হবে! একবার ভাবলাম গার্ডকে ডেকে নিয়ে আসি আবার মনে হল, না থাক! একটা রাতই তো!
পরদিন সকালবেলা নিজেকে আবার বিছানার খুঁজে পেয়ে একটু মনটা ভালো লেগেছিল। না আমি পেরেছি শেষপর্যন্ত!
রুম ছেড়ে বেরিয়ে আসতে গিয়ে বৃদ্ধের হাতে ঘরের চাবিখানি বুঝিয়ে দিতে গেছি। বৃদ্ধ তাঁর খাটের ওপর বসে তামাক খাচ্ছেন। চাবিটা বুঝিয়ে দিয়ে ভাবলাম একবার নামটা জেনে নেই!
--- আপনার নামটা তো জানা হলো না।
বৃদ্ধ কাশতে কাশতেই জবাব দিলেন,
--- নাম! নাম দিয়ে আর কি হবে বাবু?
--- তবু তো! আমাদের সকলেরই একটা নাম, পরিচয়....!
আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই বৃদ্ধ বললেন,
---সিরাজ!

Tuesday, 24 July 2018

নাবিকের ডায়েরি - প্রলয় নাগ পর্ব -৪ I think therefore, I am..

নাবিকের ডায়েরি
পর্ব -৪
I think therefore, I am..

তো ইন্ট্রোর ঝক্কি পার করে একদিন নাবিক ক্লাসে এসে উপস্থিত হল। পিজির লেবেলের প্রথম ক্লাস। আর প্রথম ক্লাসেই লেট। ক্লাসে এক ঝাঁক মাছের মতো এক ঝাঁক তরুণী। কী জানি কোন কারণে  একজন ছেলেও সেদিন ক্লাসে ছিল না।  ক্লাসে ছেলেদের মধ্যে একমাত্র নাবিক, তাও কিনা ক্লাস শেষ হবে হবে করছে তখন এসেছে।
পুরনো টেরাকোটা কালারের দেওয়াল ও টিনের ছাউনি দেওয়া দুটো ঘরে ক্লাস হতো তখন। পাশে দুটো ঘরে সমস্ত স্যার ম্যাডারা একসাথে বসতেন। তারপাশেই অফিস ও অফিসের পেছনে বিভাগীয় প্রধানের ঘর।
বিভাগের সামনে বেশ কিছুটা খালি জায়গা, বাগান গোছের কিছু একটা। আর কয়েকটি গাছের গোড়ায় বসার জন্য বেদি করে দেওয়া হয়েছে। ক্লাস শেষ হলেই সবাই গিয়ে ওই বেদিগুলোতে বসতো। সবগুলো গাছ বড়ো না হলেও বেশ কিছু গাছ একটু মোটাও ছিল। আর তাতে খোদাই করা ক'জনের কত স্মৃতি! কেউ আবার গাছের আড়ালে চক দিয়ে 'বাল' কথাটাও লিখে রেখেছে।  বাংলা বিভাগের পেছনে ছিল ইতিহাস বিভাগ। নাবিকের বরাবর মনে হয়েছে ইতিহাসের মেয়েগুলো যেন বেশি সুন্দরী।
 প্রথম দিনের ক্লাস প্রায় শেষের পথে।  নাবিক পেছনের দরজায় দাঁড়িয়ে বলল:
--- স্যার! আসবো?
--- এসো! এসো!
 শিক্ষকের সম্মতি পেয়ে নাবিক ক্লাস রুমে প্রবেশ করে পেছনের দিকে একটি কাঠের চেয়ারে বসল। ক্লাস যথারীতি চলতে লাগল। আসলে সেদিন ওটা ক্লাস ছিল না সেটা ছিল পরিচয়-পর্ব। গাল ভর্তি চাপ দাঁড়ি, কালো টি-শার্টে কিছু লেখা রয়েছে, খাকি জিনস আর আর উডল্যান্ডে লেগে থাকা লাল হলদে পাহাড়ী মাটি। হেসে হেসেই কথা বলছেন সবার সঙ্গে। নাম জিগেস করছেন, কোথায় থেকে এসেছি, কোন কলেজে পড়েছি ইত্যাদি,ইত্যাদি। মনে হচ্ছে এই উপত্যকার সমস্তটাই চষে বেরিয়েছেন উনি, সব জায়গাই যেন তার চেনা।  সবশেষে এলো নাবিকে পালা।
--- তুমি...?
--- নাবিক সরকার। মাথাভাঙ্গা কলেজ, কোচবিহার।
--- বেশ! তা এখানে কোথায় আছো? কোন মেসে?
--- হোয়াইট হাউসে।
--- আচ্ছা!
নাবিক বুঝেগেছে আইরংমারা সব মেসগুলোর খবরও উনি রাখেন। এরপর উনার পড়ানোর নিজস্ব শৈলী নাবিকের মতো সবাইকেই মোহিত করেছে। কথা বলার মাঝে হাত দুটো ওপরে তুলে 'কোট আনকোট', কিংবা ক্লাসে ছেলে মেয়ের ডিভাইডেশনকে ভেঙে দেওয়া  আবার পড়ানো ফাঁকে গেয়ে ওঠা ' If you miss the train i'am on" ইত্যাদি বিষয়গুলো সবাইকে আকৃষ্ট করত। নাবিকের মতো অনেকের কাছেই তা ছিল অভিনব।
নাবিকের মতো অনেকই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি থেকে পড়তে গিয়েছে। তখন উত্তরবঙ্গে একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়াটাই অনেক বড়ো কিছু। বি.এ ক্লাসে টিউশন পড়া আর নোট মুখস্ত করা জ্ঞানের বহর আর কতটুকু?  তারা কী করে বুঝবে উপনিবেশবাদ কী? অথচ তারা উপনিবেশের জোয়াল কাধে বহন করে চলেছে এখনও। নাবিক জন্মের পর থেকে দেখে এসেছে উত্তরের  যেন কোনও স্বতন্ত্র আইডেনটিটি নেই। সবটাই চলে দক্ষিণের অঙ্গুলি হেলনে।
ক্লাস জমতে শুরু করে। অনেক বন্ধু, তর্ক-বিতর্ক, মেইন গেটে দোকানের পেছনে সিগারেটে টান পাশাপাশি ''আমার না ওকে খুব ভালো লাগে!' এসব কিছুই চলতে থাকে। একদিকে আধুনিকতা, আধুনিকোত্তরবাদ আর অন্যদিকে স্বদেশীয় উত্তর-আধুনিকতা উঁকি মারতে থাকে।  মার্ক্স, ফ্রয়েড, ফুঁকো, লাকা দেরিদা, ফ্রেডরিক জেমসন, সার্ত্র,  গায়ত্রী স্পিভাক, প্রতীচ্য সাহিত্য তত্ত্ব পাশাপাশি বৈষ্ণব পদাবলীর সুর ঝংকার সব মিলে মেশে একাকার।   ক্লাসে স্যার বলতেন -- 'তোমরা প্রশ্ন করো? তোমাদের ভেতর যদি প্রশ্ন জাগাতে না পারি তবে সে আমারও ব্যর্থতা।"
 চিহ্ন-চিহ্নায়ক-চিহ্নায়িত, তাঁকানো থেকে দেখার চোখ সবে তৈরি হচ্ছে । নাবিক ভাবে-- I think therefore I exist. নাকি I exist therefore I think.!  সময় ও পরিসর নাবিকদেরও পাল্টে দিয়েছে। তৈরি হয় দেখার চোখ, উপনিবেশোত্তর চেতনাবাদী পাঠ কিংবা  ''আসলে আমরা কেউ পুতুল নই" বা "আসলে আমরা সবাই পুতুল" ইত্যাদি। মজিদের মাজারে জমিলার পা তুলে দেওয়া তো আসলে ক্ষমতা বা প্রতাপের বিরুদ্ধাচরণ করা। এমনি এক জমিলাও এসেছিল, চলেও গেছে, চিরতরে!  নাবিক বুঝেছে আসলে সব তত্ত্ব জীবনেই মিশে আছে, কেবল খুঁজে নিতে হয় মেলানোর জন্য।
নাবিকদের কাছে বড় পাওনা ছিল উপাচার্য মহাশয়ের ক্লাস। মেঘনাদবধ কাব্য, রক্তকরবী  পড়িয়েছেন। বুঝিয়েছেন সাহিত্যতত্ত্বের মূল নির্যাস। অমিত্রাক্ষরের ছন্দের মাঝে এসেছে গ্রীক ট্র্যাজেডির কথা,  রক্তকরবীর রাজা আর নন্দিনীর কথা কিংবা কর্ষণজীবী ও আকর্ষণজীবী মানুষের কথা। আর শেষপর্ষন্ত 'জয় নন্দিনীর জয়', প্রাণের জয়। সপ্তাহে দু' তিনটে ক্লাস নিতে ছুঁটে আসতেন। তার ক্লাস করার জন্য অনেক সিনিওর দাদারাও পেছনে বসে যেতেন। তার বই পড়েই নাবিক জেনেছে সাহিত্য সমালোচনা কেবল মাত্র প্রশস্তি নয়, ভিন্ন একটা দিকও রয়েছে। যখন তিনি সত্তরের দশকের গল্প বলতেন, গা শিউরে উঠেছে নাবিকের মতো অনেকর-ই।... ( চলবে)