#ফণি-দার চায়ের দোকানের আড্ডায়...
সন্ধ্যায় প্রতিদিন ফণি-দার চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেই। যোগেন, হরি, নকুল এরা সকলেই আসে। আমি যেতেই ফণি-দা এক কাপ চা দিলেন। চায়ে চুমুক দিয়েই দেখি মিষ্টি খুব বেশি।
--- এত মিষ্টি কেন?
--- আরে একটু খা। কিসু হবে না। কত দিন আর বাঁচবি। খায়া মর।--- ফণিদা বললেন।
--- তা ঠিক খাইয়াই মরি!
--- দেখছস চার পাশে কত লোক মরছে। আজ অমুক লেখক কাল তমুক মন্ত্রী। একদিন দেখবি এই ফণিদাও নেই! জীবনে কিছুই করতে পারলাম না!
--- মোড়ের মাথা এত জমজমাট চায়ের দোকান--- এটা কম কী? সবাই কত ভালোবাসে তোমায়! --- হরি বলল।
--- হুম। ভালোবাসে কিন্তু বাকি পইসাগুলো তো দেয় না।
-- দেবে দেবে!
--- মরলে পরে দেবে!
--- তুমি এতো সহজে মরবা না। তোমাকে আমরা মরতে দেব না।--- যোগেন কথা শেষ করেই ফণি- দাকে দু'হাতে কোলেই তুলে নিল।
--- নামা! নামা! নামা কইতাসি। এত পীড়িত দেখাইতে লাগবো না। বাকি পইসাগুলা দিস! তাইলেই হবে।
আমরা সবাই এটা দেখে হাসতে লাগলাম। আমি বললাম:
--- ফণিদা তুমি মরলে আমরা দৈনিক কাগজের প্রথম পাতায় খবর ছাপাবো। হেড লাইন হবে 'আমাদের ফণিদার মহাপ্রয়াণ'। তারপর শোক বাক্যে পাতা ভরিয়ে তুলব।
--- ক্যান? আমি বাইচ্যা থাকতে কী আঁটি বানলাম যে মইরা গেলে মহাপুরুষ হমু? ওই সব দালালিগিরি প্রয়োজন নাই। তরা কী ভারতীয় মিডিয়া?
--- আমরা তোমায় ভালোবাসি! এইটুক তো করতেই পারি!
ফণি-দা আবার শুরু করলেন:
--- শোন বইচ্যা থাকইক্যা যদি ভালো কাজ করতে না পারিস তবে মইরা স্বর্গ যাবি আশা করিস না। এই যে লুইচ্যা সুনীল কয়েকদিন আগে মরল। সবার কি দুঃখ! ও কেউ রে শান্তি দিসে বাইচ্যা থাকতে? মরার পরে এত আবেগ দেখায়া লাভ নাই। এই যে ভারতের দক্ষিণে পশ্চিমে এতো বড়ো বড়ো সাগর মহাসাগর--- কারণ কী জানস? ভারতবাসীর আবেগ। আর এই আবেগের জল গঙ্গা- ব্রহ্মপুত্র-গোদাবরী দিয়া নামে ওই সাগরে জমা হয়। আর বাঙালির কথাতো কইস না! বাঙালির এতো আবেগ সামাল দেওয়ার জন্যেই বাংলায় এতো নদ- নদী। সব জল জমা হয় বঙ্গোপসাগরে। বুঝলি!
--- তাহলে তুমি কও মানুষ মরলে কাঁদমু না?-- যোগেনের জিজ্ঞাসা।
--- একশ' বার কাদঁবি, কিন্তু ভালা মানুষের জন্য।
--- তুমি মরলে?--- আমি প্রশ্ন করলাম।
--- আমি তো মরা-ই। আর মরমু কেমনে?
সন্ধ্যায় প্রতিদিন ফণি-দার চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেই। যোগেন, হরি, নকুল এরা সকলেই আসে। আমি যেতেই ফণি-দা এক কাপ চা দিলেন। চায়ে চুমুক দিয়েই দেখি মিষ্টি খুব বেশি।
--- এত মিষ্টি কেন?
--- আরে একটু খা। কিসু হবে না। কত দিন আর বাঁচবি। খায়া মর।--- ফণিদা বললেন।
--- তা ঠিক খাইয়াই মরি!
--- দেখছস চার পাশে কত লোক মরছে। আজ অমুক লেখক কাল তমুক মন্ত্রী। একদিন দেখবি এই ফণিদাও নেই! জীবনে কিছুই করতে পারলাম না!
--- মোড়ের মাথা এত জমজমাট চায়ের দোকান--- এটা কম কী? সবাই কত ভালোবাসে তোমায়! --- হরি বলল।
--- হুম। ভালোবাসে কিন্তু বাকি পইসাগুলো তো দেয় না।
-- দেবে দেবে!
--- মরলে পরে দেবে!
--- তুমি এতো সহজে মরবা না। তোমাকে আমরা মরতে দেব না।--- যোগেন কথা শেষ করেই ফণি- দাকে দু'হাতে কোলেই তুলে নিল।
--- নামা! নামা! নামা কইতাসি। এত পীড়িত দেখাইতে লাগবো না। বাকি পইসাগুলা দিস! তাইলেই হবে।
আমরা সবাই এটা দেখে হাসতে লাগলাম। আমি বললাম:
--- ফণিদা তুমি মরলে আমরা দৈনিক কাগজের প্রথম পাতায় খবর ছাপাবো। হেড লাইন হবে 'আমাদের ফণিদার মহাপ্রয়াণ'। তারপর শোক বাক্যে পাতা ভরিয়ে তুলব।
--- ক্যান? আমি বাইচ্যা থাকতে কী আঁটি বানলাম যে মইরা গেলে মহাপুরুষ হমু? ওই সব দালালিগিরি প্রয়োজন নাই। তরা কী ভারতীয় মিডিয়া?
--- আমরা তোমায় ভালোবাসি! এইটুক তো করতেই পারি!
ফণি-দা আবার শুরু করলেন:
--- শোন বইচ্যা থাকইক্যা যদি ভালো কাজ করতে না পারিস তবে মইরা স্বর্গ যাবি আশা করিস না। এই যে লুইচ্যা সুনীল কয়েকদিন আগে মরল। সবার কি দুঃখ! ও কেউ রে শান্তি দিসে বাইচ্যা থাকতে? মরার পরে এত আবেগ দেখায়া লাভ নাই। এই যে ভারতের দক্ষিণে পশ্চিমে এতো বড়ো বড়ো সাগর মহাসাগর--- কারণ কী জানস? ভারতবাসীর আবেগ। আর এই আবেগের জল গঙ্গা- ব্রহ্মপুত্র-গোদাবরী দিয়া নামে ওই সাগরে জমা হয়। আর বাঙালির কথাতো কইস না! বাঙালির এতো আবেগ সামাল দেওয়ার জন্যেই বাংলায় এতো নদ- নদী। সব জল জমা হয় বঙ্গোপসাগরে। বুঝলি!
--- তাহলে তুমি কও মানুষ মরলে কাঁদমু না?-- যোগেনের জিজ্ঞাসা।
--- একশ' বার কাদঁবি, কিন্তু ভালা মানুষের জন্য।
--- তুমি মরলে?--- আমি প্রশ্ন করলাম।
--- আমি তো মরা-ই। আর মরমু কেমনে?
বেশ লাগল। আড্ডা চলুক। আড্ডা জমুক।
ReplyDeleteধন্যবাদ শৌভিক-দা।
Delete